অস্ট্রেলিয়ার সিনেটর পলিন হ্যানসনের পদ এক সপ্তাহের জন্য স্থগিত করা হয়েছে, কারণ তিনি সোমবার (২৪ নভেম্বর) পার্লামেন্টে বোরখা পরে প্রবেশ করেন এবং এই বিষয়টি নিয়ে প্রতিবাদ করেন। মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) বিবিসির প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হ্যানসনের এই কাজের কারণে অন্যান্য সিনেটররা তাকে নিন্দা জানিয়েছেন। একজন সহকর্মী তাকে ‘স্পষ্টভাবে বর্ণবিদ্বেষী’ আখ্যা দিয়েছেন। হ্যানসন দীর্ঘদিন ধরেই একটি বিল প্রবর্তন করতে চাচ্ছেন যা জনসম্মুখে পূর্ণ মুখোশ পরিধান নিষিদ্ধ করবে।
হ্যানসন সোমবারই দ্বিতীয়বার বোরখা পরে পার্লামেন্টে উপস্থিত হন। তিনি বলেন, তার এই পদক্ষেপ ছিল সেনেট তার বিল প্রত্যাখ্যান করায় প্রতিবাদের অংশ হিসেবে। অন্যান্য আইনপ্রণেতারা তার বিল আনার বিরোধিতা করলে তিনি আবার কালো বোরকা পরে ফিরে আসেন।
গ্রিনস দলের সেনেটর মেহরিন ফারুকি বলেন, হ্যানসন স্পষ্টভাবে বর্ণবাদী আচরণ করছেন। পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার সিনেটর ফাতিমা পইম্যান এই ঘটনাকে ‘অপমানজনক’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী পেনি ওং মঙ্গলবার হ্যানসনের বিরুদ্ধে নিন্দা প্রস্তাব উত্থাপন করেন। প্রস্তাবটি ৫৫ ভোটের বিপরীতে ৫ ভোটে পাস হয় এবং এতে বলা হয়েছে, হ্যানসনের কর্মকাণ্ড ‘ধর্মীয় কারণে মানুষকে অপমান এবং হাস্যকর করার উদ্দেশ্যে’ ছিল এবং এটি ‘মুসলিম অস্ট্রেলিয়ানদের প্রতি অসম্মানজনক’।
ওং আগের দিন দাবি করেছিলেন, হ্যানসন অস্ট্রেলিয়ান সেনেটের একজন সদস্য হিসেবে যোগ্য নন। হ্যানসন এক ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, যদি তারা আমাকে বোরখা পরতে দিতে না চায়, তবে এটি সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করুন।
এর আগে, ২০১৭ সালে তিনি প্রথমবার পার্লামেন্টে বোরখা পরে প্রবেশ করেছিলেন এবং সেবারও তিনি জাতীয় নিষেধাজ্ঞা আরোপের পক্ষে দাবি করেছিলেন।





